শ্যামল জানা-র কবিতা

কবিজন্ম
শ্যামল জানা-র কবিতা নৃত্য সেই নটরাজ, তার নৃত্যভঙ্গিটি রাত্রির হাতে তুলে দিয়ে যখন বলে, ব্যবহার করো- রাত্রি তখন পেরে ওঠে না... তখন, তার আঙুল থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে নানা ধরনের সব বিতর্কিত সন্ধ্যা! এই সন্ধ্যাগুলির প্রত্যেকেই তখন গায়ে মেখে নেয় নটরাজের দেওয়া ওই নৃত্যভঙ্গিটি। তারপর নৃত্যরতা অবস্থাতেই তারা ক্রমশ রাতের দিকে ধাবিত হয়...... যেতে যেতে, পথপ্রান্তে যেসব ঘুমন্ত বাতাস দেখতে পায়, তাদের ডেকে তোলে। তাদেরও গায়ে মাখিয়ে দেয় ওই নৃত্যভঙ্গিটি; আর, ওইসব সন্ধ্যারা, যতক্ষণ ধরে রাতের দিকে ধাবিত হয়, তাদের শরীর থেকে ক্রমাগত খসে পড়তে থাকে টুকটাক আলো। এক সময় অন্ধকার গভীর হলে, পৃথিবীর সমস্ত রঙের মৃত্যু ঘটে যায়। এইবার- রাতের হাতে তুলে দেওয়া নটরাজের ওই নৃত্যভঙ্গিটি কেয়ামত জেগে ওঠে। বাতাসের ভেতরে অন্ধকার, আর অন্ধকারের ভেতরে বাতাস, মিলেমিশে, মহাকাশ জুড়ে শুরু হয়- সে এক অযোনিসম্ভব ফেনপুঞ্জ রঙহীন ধাবিত নৃত্যভঙ্গি...... আর, সেই ধাবিত নৃত্য, পৃথিবীকে বলের মতো গড়াতে গড়াতে একুশ শতকের অনন্ত ফোকরের ভেতরে ঠেলে দেয়...... অধৈর্য ফেস্টুন গুটিয়ে আজকের মতো চলে যাচ্ছে রোদ। তার দু-পায়ে নূপুরের মতো অন্ধকার বেঁধে দিয়েছে কেউ! ফলে, মাঝে মাঝে ঝমঝম করে বেজে উঠছে অন্ধকার। আর, মাঝে মাঝে রেগে গিয়ে, নীরবতা কামড়ে ছিঁড়ে ফেলছে শূন্যতা... এ দুটোর কেনোটাই সমর্থনযোগ্য নয়! তাই, আমি রোদ্দুরকে বন্দুকের মতো লাল সিগন্যাল ঠেকিয়ে বলছি- আর নয়, অন্ধকারের কণ্ঠনালীতে চাকুর মতো থার্মোমিটার ঠেকিয়ে বলছি- প্রকৃত অন্ধকার কখনও উষ্ণতা ছাড়িয়ে যায় না। আসলে, যে কোনো রোদই পৃথিবী-পরিক्रমাশেষে প্রগল্ভতা হারিয়ে ফেললে, তরল অন্ধকারে পরিণত হয়! আসলে, প্রতিদিন, এই রোদ থেকে অন্ধকারের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত কীভাবে, পিঠে বৌ-বাচ্চা-ক্রীতদাসত্ব নিয়ে তুমি, সাবলীলভাবে সাঁতার কাটতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করে, তোমার সিগন্যালের রং লাল না সবুজ....... কেউ কেউ বাঘের থাবা থেকে টুক করে কেড়ে নিতে পারে হিংস্রতা, কেউ কেউ মাছের জলচারণা থেকে চেয়ে নিতে পারে তার নিরীহ চলন। হে, আমার প্লাস্টিকের মধ্যবিত্ত- তুমি এর কোনোটাই পারো না...... শুধু পারো, ওই অমীমাংসিত হলুদ সিগন্যালের তলায় মনে মনে বিপ্লবের অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলতে......