মৌলীনাথ গোস্বামী-র কবিতা
রূপ
যত কাছে আসি, কাছ থেকে দেখি -
চোখে পড়ে তোমার গালের উদ্ভিন্ন ব্রণ, চুলের খুসকি
মনের ভেতরকার পুরাতন পক্সের দাগ
হৃদয়ের পলি জমে জং ধরে গেছে ঠোঁটের দেরাজে...
এইসব ঢাকা দিতে তুমিও মেক-আপ করো সকলেই সাজে -
যত কাছে আসি, কাছ থেকে দেখি... ভয় হয়
কারণ তখন তোমায় দেখতে একদমই ভালো লাগে না
বরং, যখন দূরত্বে থাকি না-দেখার নিরালা আলোয়
তখন তোমায় দেখতে ঢের বেশি ভালো লাগে
ত্বকের সকল গর্ত, ব্রণ, বুকের অতীত ক্ষত -
চাঁদের উপরিতল
আর, তুমি তার স্খলিত জ্যোৎস্নার তুমুল রাগিনী
অথবা মিশরদেশের নামহীন ফ্যারাও-র লেখা
অসমাপ্ত প্রেমের অপরূপ বিধুর কাহিনী
তুমি -
কী অপারগ এক অসহ যন্ত্রণার নিদারুণ শেষরাতে
লাশের শরীর ঢাকা শুভ্র চাদর ধরে টান দিই
তোমাকে চরমতম সুন্দর বলে মনে হয়
দাবাড়ু
আজও একমনে দাবা খেলে কিছু কিছু লোক
দান দেয় ভুলের পরমার্থ
দুপুরের চতুরঙ্গ অনায়াসে জিতে ফেলে
মিটিমিটি আত্মশ্লাঘায় হাসে কুটিল দ্বন্দ্বী...
আড়াই চালের প্রতিটি পা-ফেলার ঠোক্কর সম্বল
ভ্রান্ত পদক্ষেপটাকে পরবর্তিতে শুধরাবে বলে
ফের
আব্বুলিশের ছক পাতে আহত বিজিত
অধরা রাজাকে কিছুতেই মাত করা গেল না জীবনে -
সেই ক্ষোভ থেকে মরিয়া, মরিয়া হয়ে
মিনিকেট-মুসুরির ওবেলায় খুব ভালো দান দেয়
সন্ধের চৌপট জিতে নেয় দুপুরের বিজয়ীর থেকে
ওঠাপড়া চলতেই থাকে...
কয়েকটা হার-না-মানা মধ্যবিত্ত লোক
কিস্তিমাত ভবিতব্যের
মলিন ডাকের সাজের দিকে পিঠ করে
চৌষট্টি কলার অপরাজেয় কবিতা লিখে চলে রোজ
চাল দেয় ঘাড়গোঁজ
আর মনে মনে মন্ত্র জপে - আফরোজ় আফরোজ়