কালিদাস ভদ্র-র কবিতা
ঈশ্বর
ফাগুনের রাতে মাদার গাছের ফুল ঝরা
আলের পাশে ধূসর ঘাসের পরে
যে লোকটা শুয়ে
তার মাথার নীচে খড়ের বালিশ
পায়ের পাতায় দোল পূর্ণিমা চাঁদ
তরুণ বাবলারা মৃদু হাওয়া দিচ্ছে থেকে থেকে
মেঠো ইঁদুর আর রাতচরা ঝিঁঝি
দেখছে এক আশ্চর্য ঈশ্বর যেন শুয়ে
মাথার কাছে বিছিয়ে রাখছে আকাশ
বর্ণালি রঙের আভাষ
যে লোকটা মনিস ছিল দুপুরে
আধপেটা পান্তা খেয়ে
জমিদারের খিস্তি খেয়েছে
ঘুমের ওষুধ ছাড়া সে মাটির বিছানায়
অকাতরে ঘুমিয়ে স্বপ্ন বুনছে জীবনের
মানুষ দেখি না ঈশ্বর দেখি...
গন্ধ
খুলনার খেয়াঘাট নিশ্চুপ দ্যা খে
ভরন্ত কিশোর সন্ত্রস্থ চোখে
থর থর কাঁপা পায়ে
ভীরু মুখে ছুটছে
কাঁটাতারের হাতে শৈশব
জন্মভূমির গন্ধ
আম,জাম,জারুলের ফিসফাস
বেনেবউ, কাঁচপোকা, ঝিঁঝির
বিরহ গোপন রাখে রাত্রির নিক্কণ
নদী নালা, খাল বিল, পাটক্ষেত
গর্ভবতী ধান শিষ
মাছরাঙা, পানকৌড়ি, ডাহুক
চোখ ছলৎছল
নৃত্যঙভঙ্গী যশোর রোড কোল পাতে
দৌড়োচ্ছে ভরন্ত কিশোর
ভিটেমাটির পাঁজরে পাঁজরে
দেশভাগ লেখে হাওয়া বালক
খুলনার খেয়াঘাট নিশ্চুপ দ্যা খে
কিশোরী জমিলার চোখে
শ্রীরাধার বিরহ যেন জড়িয়ে আছে...