ধীমান চক্রবর্তী-র কবিতা
খোঁজ - জানলা
অগ্রজ মানুষগুলি।
প্রায় অন্ধকার ঘরে ।
সামান্য সম্মান খুঁজছে ।
ভাষারও নিজস্ব কিছু
ভাষা আছে। নিজের সাথে
কথা বলার। অন্ধকার
আজ পর্যন্ত তা বুঝতে
পারলো না । ছড়িয়ে
ছিটিয়ে থাকা লাশেরা।
জানালার গল্প শোনে।
বেঞ্চিতে বসা আলো ।
অপার এবং শূন্য ।
অনন্ত আর অবিদ্যায়
মহাজগত খোঁজে।
দীর্ণ - সূর্যাস্ত
কাউকে ভালবাসলে।
চারদিক শূন্য হয়ে যায়।
মৃত শব্দ। অনেক কিছু
বলতে চায়। সূর্যাস্তের
সুরঙ্গ দিয়ে তাকিয়ে ।
দীর্ণ অন্তহীন শূন্য
খেলে বেড়ায়। মুখ ,--
আলো পান করে শার্শিতে।
কোন কোন দিন মনে হয়।
চিরটা কাল বেঁচে থাকা যাবে। নতুনের কথা ভাবতে ভাবতে । কেউ কেউ মরার আগেই
মারা যাচ্ছে । সূর্যাস্তের মন ,--
সেও মারা যায়।
নাচা - জানলা
সকাল বেলা। ঘোড়দৌড়
আশিটি জানলার গল্প বলে। কলকাতা তো অনেক দূর । পাঁচতলা ওঠার সময় ।
জানলা ওড়ার কথা ভাবে।
দুলতে থাকা মাধবীলতা।
হয়তো আকার ইঙ্গিত জানায়। স্বপ্নে । লক্ষ্মীর পা ।
বৃষ্টির তালে নেচে ওঠে।
উদাসীন হবার কথা ভাবে।
কাউকে ভুল না বোঝার
কথা ভাবে। স্তব্ধতার মধ্যে
যে স্তব্ধতা । সেই বিরল-কে
মুক্তি দিতে চায়।
ইশারা - জানলা
সামান্য দুঃখ আছে। কখনোই এখানে বরফ পড়েনা বলে ।
বারবার বিষয় বদলে যায়।
এড়িয়ে যায় । এক আধটা
ভয়। দোলনায় দুলছে ।
খালি নেফারতিতির কথা
মনে পড়ে। ঠাকুমার
বিছানায় শুয়ে । জল আর
শস্যের রঙ নিচ্ছে। গাছের
শরীরে যে দরজা আছে।
রাতের বেলা । ইশারায় ডাকে। জানালার মুখ। জানলা-কে
ছেড়ে দরজা দিয়ে ঢুকে যায়।
আদল
নিকোটিন ভিজিয়ে দেখলে । কারো
কারো মুখ , দু'ভাগ হয়ে যায় ।
তার একদিকে আলো ।বাকিটা অন্ধকার।
চেয়ারে বসে । বর্ষাতি গায়ে দেওয়া ।
ছায়াময় কোলাজ । নিজের পুরানো
ফোটোগ্রাফ , তার ছায়া দেখে ।
খুঁজছে । নতুন জীবনের মানে । জলরং
খুলে । গড়িয়ে নামলো ভাঙা কাচ ।
চিয়ার্স স্বভাবে খুল্লামখুল্লা জন্মদাগ ।--
গড়িয়ে নামলো । তার শতভিষা ছড়ানো
অন্ধকার । বাকিটা আলো ।