তীর্থঙ্কর সুমিত-র কবিতা

কবিজন্ম

 তীর্থঙ্কর সুমিত-র কবিতা 



স্পর্শ


সময় বয়ে যায় সময়ের সঙ্গে

অপেক্ষার তাজমহলে

ভালোবাসার প্যারাসিট আমল প্রতি ঘরে

সময় কেটে যায় সময়ের নিভৃত যন্ত্রনায়

আপামর জানসাধারণ জানে

ফেলে আসা ব্যর্থতার ইতিহাস

কলকে গাছের ডালে পাখি এখনো বাসা বাঁধে

রাত পেঁচারা প্রতিনিয়ত আসে আমার ঘরে

বিষন্ন কবি জীবনে ডুয়ার্সের নদী


একাই তরাইকে স্পর্শ করে।






নিঃশব্দের প্রহর



নিঃশব্দে প্রহর এসেছিলো

পাখির কান্না শুনেছি বহুবার

একান্ত নিভৃতে কেঁদেছি বর্ণমালার খোঁজে

ক্ষণভঙ্গুর ভালোবাসা আজ অতীত

খাতার সাদা পাতায় এখনও 

অতন্দ্র প্রহরী পাহাড়া দেয়

প্রতি পদধ্বনিতে শোনা যায় চাতকের কান্না

উন্মুক্ত দরজায় পরাজিত সৈনিক আর আমি

দ্রবণের ঘনত্ব বাড়লে

তরলেরা বেঁচে থাকে।





বৃষ্টি দাও




আমীমাংসিত হিংসা নিয়ে প্রতিদিন হেঁটে চলেছি

মাথার ওপর খোলা জানলা

সূর্যের রশ্মির সাথে পাথরের যে হৃদ্যতা

কফির কাপে লেগে থাকা পুরোনো চুমুকের ক্ষত 

আজ,

বর্ষা হলে মন খুলে কাঁদা যায়

গাছেদের স্নান দেখে নিজেকে...

দারুন অনিচ্ছার রাজপথে নেমে

মেঘেদের প্রশ্ন করা যায়


শূন্য মুঠোয় একটু বৃষ্টি দেবে?





দেবতা কান্না



কিছু কথা শুনতে শুনতে...

একাগ্রতার হাত ধরে পার হয়ে গেলাম সমুদ্র

প্রতিদিনের হিসেব

পালে হাওয়া লাগলে নদীর দিক পরিবর্তন হয়

সমুদ্র মন্থনে পাওয়া যায় ---

একটা সকাল আঁকার রং তুলি

ফিরে আসা যত অভিমান

বিরহের উপনিষদে জ্বল জ্বল করে

এ কেমন ভারতবর্ষ আমার

দেবতারাও কেঁদে ওঠে অগোচরে।





কালের প্রতিধ্বনি 



ভাবছি আবার একটা গল্প লেখা শুরু করবো

যে গল্পে পথের বয়স থেমে থাকবে

ক্রমশ হাসবে নুড়ি - পাথর আর পথের ধুলো

খবরের কাগজের পাতায় ফুটে উঠবে

কালের প্রতিধ্বনি...

ব্যর্থ বিন্দুরা জেগে থাকবে বৃত্তের ভেতর

নির্মল ঝিলে উঁকি দেবে স্বাধীনতার মহামন্ত্র

ছায়াপথের ছায়ায় নিজেকে ঢেকে নেবো আঁচল দিয়ে

তারপর, এক - একটা দিন

আকাশে ঘুড়ি উড়বে আর নীলকে নীল হতে দেখবো প্রখর আদ্রতায়...





একান্তে



নদীর কাছে কান্না রাখি প্রতিদিন

গচ্ছিত সম্পত্তি বলতে

কয়েকটা অক্ষর আর মেটো ফুলের বাগান

আঁকিবুকি কাটি প্রতিদিন খাতায়

নির্দিষ্ট একটা জমি ছিলো

বিঘা প্রতি কতগুলো বৃত্ত ছিলো

আর সম্পাদ্যে সমাধানের কান্না

এখন ব্যতিক্রমি প্রমান

সামনেএক অজানা পৃথিবী


হেঁটে চলি একান্তে।