দিশারী মুখোপাধ্যায় -এর কবিতা
খুন শেখাবার ক্লাস এবং ইত্যাদি
১)
আজ থেকে খুনের ক্লাস শুরু হল।
কে খুন করে , কাকে খুন করে
এবং কেন করে ?
একজন আদর্শ খুনির
কোন কোন গুণ থাকা আবশ্যক ,
খুন করা হবে যাকে
তাকেই বা কেমন হতে হবে , -এইসব পাঠ্যসূচি।
খুনিকে অবশ্যই জানতে হয়
খুনের মাহাত্ম্য ,
খুন হয়ে যাওয়ার পর , তুমি , নিহত ব্যক্তি
কতটা কৃতজ্ঞতা জানাবে খুনিকে ,
কোন ভঙ্গিমায় , - জানা দরকার।
আজ থেকে ক্লাস শুরু হল ,
পাঠে খুব মনোযোগী হওয়া আবশ্যক।
২)
খুন বিষয়ে আজ দ্বিতীয় ক্লাস।
খুন করার জন্য
কিছু কিছু অস্ত্রের দরকার।
শক্ত লাঠি , ধারালো অস্ত্র , আগ্নেয়াস্ত্র
ইত্যাদি যাকিছু অস্ত্র
সবই অত্যন্ত নিম্নমানের।
এসবের সাহায্যে যে যে খুন করা হয়
তার সাফল্যের হারও খুবই কম ,
এমনকি অনেক সময়
যাকে খুন করা হয় তার আয়ু বেড়ে যায় ,
অমরত্ব প্রাপ্তিও ঘটে সময়ে সময়ে।
বেইমানি , প্রতারণা , বিশ্বাসঘাতকতা
এইসব অস্ত্রও ব্যবহার করে অনেকে।
অস্ত্র হিসাবে এদের মান সামান্য উঁচুতে হলেও
সংশয়াতীত নয়।
খুন করার জন্য
সবচেয়ে সেরা অস্ত্রটির নাম ভালোবাসা।
৩)
খুন বিষয়ে সম্যক জানতে গেলে
একাজে আগে নিজের অবস্থান
স্পষ্ট করতে হবে।
যে নিজে খুন হবে
আর যে অন্যকে খুন করবে
তাদের চশমা , গ্লাভস এবং নিজস্ব বয়ান
সম্পূর্ণ ভিন্নরকমের হবে।
খুনের দৃশ্যটি রক্তে রাঙা হবে নাকি
রক্তপাতহীন হবে
সে বিষয়ে উভয়ের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অধিকাংশ সময়ই এই ক্রিয়াপদটি সামাজিকভাবে
প্রয়োজনীয় ও প্রকাশ্যে সম্পন্ন হয় ,
কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অবশ্যই
গোপনীয়তা দাবি করে।
৪)
বিচারক কহিলেন - বলুন , যাহা কহিব অনিবার্য কহিব,
অনিবার্য ব্যতীত আনকথা কহিব না।
যাকে শপথ নেওয়ানো হচ্ছিল
সে এতদিন গীতা স্পর্শ করে মিথ্যা কথা বলার
অভিজ্ঞতা সংগ্রহের জন্য উদ্গ্রীব ছিল।
অথচ এখন সে দেখছে গীতা নেই ,সত্য নেই ,
এমনকি সামান্য ঈশ্বরও নেই কোথাও !
এ কেমন শপথ ?
তাছাড়া অনিবার্য শব্দটির মাথামুণ্ডুও
কিছু বুঝতে পারছিল না সে।
যে মারা গেছে এবং তার মৃত্যুর জন্য
যে পুরস্কৃত হয়েছে
উভয়েরই এক দালাল বন্ধু
সাক্ষ্য দেবার জন্য এসেছিল। এসেছিল
সত্যের নগ্ন শরীরটা দেখে যৌন সুখ নিতে।
এখন সে বেচারা বাধ্য হয়ে
নীট্শের শরণাগত হতে চাইছে।
৫)
হত্যা করার পর সে তার ধারালো অস্ত্রটি
ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলল।
পরিষ্কার করার সময় সেটার ধারালো কিনারায়
বারবার নিজের আঙুল চালিয়ে পরখ করল ,
নিজের গলাতেও দুবার পোঁচ দিল ,
বুকের ভেতরে যেখানে প্রেম জমে মিছরি হয়ে আছে
সেখানে আমূল বিদ্ধ করতে চাইল।
নাহ , কিছুই হল না।
অর্থাৎ খুন করার কাজে সে সম্পূর্ণ সফল হয়েছে।
হত্যা সম্পূর্ণ হবার পর সে উঠে বসল ,
দাঁড়াল , চলতে শুরু করল।
যাকে হত্যা করেছে ,সেই ব্যর্থ লোকটার পরিচয়
কোনোদিন আর তাকে বইতে হবে না।