স্বপন শর্মা-র কবিতা

কবিজন্ম

স্বপন শর্মা-র কবিতা

আমার ভেতরে                                                 


আমার ভেতরে এক অগ্নিরূপী ঢেউ 

 মনে করি সে তরঙ্গ অচেনা পুরুষ 

কামনাবিহীন তিনি চান অন্য কেউ 

ভেতরে বাঁচান জ্ঞান মান আর হুঁশ ।  

    

বিজন রোদ্দুরে অন্য কেউ হতে পারি ?  

লক্ষ্য যার ঘরে তোলা অমূল্য ফসল  

কী কারণে যুদ্ধে নেমে বলে কয়ে হারি ?  

কামনা দেখায় পথ, অন্তঃস্থিত বল । 


যতই পোড়ান, অন্য আমি খুঁজে যান 

মাটিতে শেকড় অন্য কেউ হতে পারি ?     

আমার অজান্তে যদি  আমাকে ফোটান,       

 ঋতুমতী দিনরাত কেন হবে ভারী ?    


থাকুক ভেতরে প্রিয় অচেনা পুরুষ     

স্থিতধী আলোর শিশু আর মুদ্রাদোষ ।       

 




    ফিরে পাওয়া  


 আশা কথা বলে,  শুধু আশা কথা বলে 

 আহ্নিক গতির সঙ্গে লড়ে জিতে যাই  

 শূন্যে যেন তুলোর মতো উড়ি নির্ভার 

 আসলে মনের সমুদ্র মন্থন শেষে 

 তাকে পেয়ে নিঃস্ব যাপনের মানে হয় ।  


 হৃদয় কাঁপানো এক মোলায়েম কন্ঠের জাদু 

 আবেগে ভরা  নিরালার গান হয়ে বাজে 

 কোন সম্পর্কই নেই 

 অথচ কেন লিখি এক সম্পর্কহীনতার গান ?  

 কেন তার সাহচর্যে 

 তপ্ত  সময় পাখা মেলে দ্রুত উড়ে যায় ?

 বহু বছরের বিভূতির  সাক্ষী  

 নিজেকে  ফিরে পেয়ে

 সময়ের তীরে যাপনস্পৃহা বেড়ে যায়

 বেড়ে যায় একটি আমির উদ্‌যাপন ।

   

 আকাশ বাতাস ধ্বনিময়,  

 যে দিকে তাকাই খুশি  বর্তমান, 

 তাকে ফিরে পেয়ে সাধনা ফলপ্রসূ 

 উল্লসিত ও নির্ভার চারদিকে  

 হরেক আমাকে আমার মধ্যে সবুজ ফিরে পাই ।      











        সমকাম                                                              


প্রায়ই অসুস্থতার ভানে বিছানায় শুয়ে পড়ে পনেরো বছর

পিয়ানো শিক্ষিকা তার নরম শরীরের পাপড়িতে হাত বুলিয়ে দেন 

পাপড়ির খাঁজে খাঁজে তাপ, অস্বস্তি ও খিদে 

শিক্ষিকা বোঝেন না । কিন্তু যখন পালটা নরম ছোঁয়ায় 

আচ্ছন্ন শিক্ষিকা শুয়ে পড়েন বিছানায়

বছর পনেরোর স্নিগ্ধতায় ভাসিয়ে দেয় ত্রিশোর্ধা বিছানা 

স্পর্শ ও লেহনের স্বাদ পায় তাঁর টানটান ও উত্থিত স্তনাগ্র

স্বামীর অনাঘ্রাত কস্তুরী ঘ্রাণের নাভি,  শ্রোণিদেশ 

দুই ঊরু ও  নতুন ভাবে আবিষ্কৃত যোনিপদ্ম ।


মাঝে মাঝেই নগ্ন পিয়ানো বাজায় নরম হাতে ছাত্রী   

সংসার , স্বামী ও কন্যা দূরের কেউ মনে হয় 

ভেঙে যায় খেলাঘর , পৌরুষের দেওয়াল কিংবা  

প্রাত্যহিক নিয়মের বেড়াজাল । 


অচিরেই নতুন ফ্ল্যাটে ছাত্রী ও শিক্ষিকা, 

পিয়ানোর সুরে মিশে থাকে দু’জনার শিহরন 

ভিন্ন চাষে পটু ,আবাদ গ্রহণে হামেশা আগ্রহী 

শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ পনেরো বছর 

শিক্ষিকার  সঙ্গে তৈরি  নতুন গোলার্দ্ধ ।  


শিক্ষিকা অসুস্থ ? না তাও নয় ,

বিজন রোদ্দুরের দেশে খুশি ছাড়া  

বাকি সব মিথ্যা মনে হয় । 

শুধু শিহরিত ও সোনালি মুহূর্তের জন্ম ছাড়া    

বাকি সব মিথ্যা মনে হয়  । 





         পথের শুরু                                                


   কোনদিন নিজের শব কাঁধে চলি পথ 

   হতাশ সময় ডানা মেলে উড়ে যায়  

   চলমান পথের দিকে ফিরেও তাকায় না 

   একটা অচেনা ঘোরের মধ্যে  

   অনুভবী সেই পথের মানে খোঁজা   

   এই খোঁজাতেই অলৌকিক আনন্দ । 

   তখন আমার উদ্‌যাপন প্রক্রিয়া শুরু 

   কাঁধে নিয়ে চলা শবে প্রাণসঞ্চার।  

   

   যে পথেই যাই , শুধু শুরু আছে

   কোথায় যে শেষ তার হদিশ পাই না 

   প্রতিটি নারী ও পুরুষ তবে কি একেকটি পথ ?   

   অনুসরণ করে দেখি কারও কোন  শেষ নেই।    

   মৃত্যু ? সেও তো  অন্য এক জীবনের শুরু  

   কামনামুক্ত মুক্তির গানে গানে।  

   সেও তো পারে নামের মহিমা 

   আকাশ ছাদের নীচে উজ্জ্বল করে দিতে 

   কিংবা নির্মাণ করে দিতে একটি কালজয়ী  

   অদৃশ্য পথ যার কোন শেষ নেই ।    









             ফোটাতে                                                    


    নিজেকে ফোটাতে চাই দুঃখী কোন রাত  

    সাময়িক নির্বাসন, সময়ের ওম 

    সব পেলে বাকি থাকে চেনা অন্তর্ঘাত 

    হারায় না তবু লব্ধ সব সরগম ।


    বিদারক অন্ধকারে ফোটে লুপ্ত তারা  

    সময়ের শব দেখে করে জ্বলজ্বল 

    আলোকিত করে তাকে চাঁদের পাহারা 

    অন্ধকারে ফোটে তাই পল-অনুপল । 


   একটি জীবনদায়ী ওষুধের মতো  

   অন্ধকারে সংরক্ষণ  ভেতরের আলো  

   সে আলোকে আমাকেই দেখি শতশত 

   জানি না কে তবে হৃত আমাকে ফোটাল ! 


   আমাকে অবাক করে ফোটে দুঃখী রাত 

   বিনির্মিত কালে দেখি নিজ বৃষ্টিপাত ।