শঙ্খ অধিকারী-র কবিতা

কবিজন্ম

 শঙ্খ অধিকারী-র কবিতা


বন্দেমাতরম 


আকাশে মেঘের চিহ্ন দেশ জুড়ে বয়ে যায় ঝড় 

উড়ন্ত পতাকার উপরে কালো কালো আস্তরণ 

ভাঙুক এবার সব ভারতবাসীর অলস ঘুম।


কেউ করবে মহাসংগ্রাম কেউ আবার গড়বে 

আমাদের এই দেশ সীমানায় প্রহরীর মতো 

জাগ্রত থাকবে কেউ সারা দিন রাত ।


মাঠে মাঠে ফলবে ফসল 

শিল্প কারখানায় ভরবে এই ভারতভুখন্ড 

আর দিকে দিকে হবে সংস্কৃতি বিপ্লব।


পাখিদের কন্ঠেও ঝরবে দেশ প্রেমের সংগীত 

নিঝুম মায়াবী রাতে ভাটিয়ালি সুরে 

নাবিক গাইবে দেশের বন্দনা গান।


সূর্যের উদয় হলে মাথার উপর 

তেরঙ্গা উড়িয়ে দিয়ে ভারতবাসীর 

সমবেত সুরের ধ্বনিতে গ্রহ নক্ষত্র কাঁপিয়ে 

উচ্চারিত হয়ে যাবে বন্দেমাতরম।




আজ তুমি আসবে বলে 


আলোর কিরণ আজ যেন হেসে ওঠে 

আজ ফুলও বলছে কথা 

আরও বিচিত্র ফুলের সঙ্গে।

পাখি ডানা মেলে দিয়ে আনন্দে উড়ছে 

ঊর্ধ আকাশের সীমানায়,

মধ্য দিনের বাতাসে বয়ে আসছে নূপুর ধ্বনি 

মিলনের আশা নিয়ে অরণ্য বৃক্ষেরা 

নীরব দৃষ্টিতে চেয়ে আছে পরস্পরে।

পাহাড়ের ভাঁজ থেকে বয়ে যাওয়া ঝর্না 

আজ শুধু গাইছে সংগীত 

আর মৃত নদীটির স্রোতে বয়ে যায় শান্তি ধারা।


আজ তুমি আমার নিকটে গোপনে আসবে বলে 

পৃথিবীর দুই প্রান্ত হল আত্মহারা।



লক্ষ্য 


দীর্ঘ পথটি বেঁকে গেলেও সোজা হয়ে হাঁটবার 

কথা ভাবি আমি পথের দুই ধারেই 

ভরে আছে ঘাস আর কন্টকবৃক্ষেরা 

বার বার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে শুধু তারা।

মাথার উপর কয়েকটা দুষ্ট পাখি 

কুরুচি সংগীত গেয়ে ওঠে 

রাত ঢেলে দেয় অন্ধকার,

যতকিছু হোক তবুওতো 

হেঁটে যেতে হবে এই পথ।

মাঝে মাঝে জল কাদা ঝড় ভুমিকম্প 

হিংস্র পশুদের বিচরণ,

যা কিছু হোক না কেন তবুও সোজা হয়ে হাঁটব 

এই অনন্ত অনাদি পথ।




ফুলকুমারী 


ফুলের বনে রৌদ্র নয়ন তুমি ফুলের রানি 

উজান স্রোতে বইছে নদী মেঘ দেয় হাতছানি।

বৃষ্টি ফোঁটায় জীবন পেলে কলংকিনী ফুল 

মেঘের ভাষা বুঝতে তোমার ছিল অনেক ভুল।

পাখির মতো ডানা মেলে উড়ান দাও যদি 

তৃষ্ণা নিয়ে থাকবে জেগে ঘুমবে না নদী।

পাহাড় চূড়ায় বনের মাঝে বনজ লতা ফুল 

আবার কবে ছুঁয়ে দেবে তোমার খোঁপার চুল।

মেঘ যদি হয় রুদ্রমাধব হবে তবে বন্যা 

ভালোবাসা দাও না এবার ফুলকুমারী কন্যা।