প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর কবিতা
নুন
থেমে থাকা পা-গুলো যে মাংসের নূপুরে ! নিক্কণ ভাসেনি কোনো,
তবু শব্দ ভেসে যায় প্রবাল-শোণিতে,আর তীব্র নাদে কাঁদছে
দুপুর!সেও রেখাপারঙ্গম শহরতলীতে আঁকা নিশ্চুপ ষোড়শী এক ;
ন্যগ্রোধ গাছেরা যেন এক-আকাশ ছায়া দিয়ে শরীরে মজেছে আর
ডেকে ডেকে উঠেছে শিয়াল!—এ রকম-ই ছবি দিয়ে সে ঘর
সাজানো , বাকি সব শশ্মানে-মশানে বসে কালীমার্কা নিয়ে খুব
খুশ ...
আরম্ভ ছিল না দেখে মধ্যবর্তী রেখা গুলো সঙ্গ দিল না, আর
থিকথিকে ভিড় থেকে ‘দাঁতহীন তুলোর গঠন’ এই নিয়ে নয়া
সিলেবাস ! কে বলেছে শব্দকে অর্থবহ হ’তে হবে ? ছিরি হবে ?
ছাঁদ হ’বে ? যদি তা না হয় ? প্রশ্নের উপরে প্রশ্ন ,
কলার উপরে ছলা ? তা যদি না-ই হবে, তবে এই বাক্যবন্ধ কী
অর্থে রাস্তায়? রাস্তাগুলো চলমান।শাকান্ন অবধি । এর আগে
ছিল সব মরু অভিমুখী ,তবু কেন মাংসের নূপুর ... রিন রিন...রিন
রিন... রিন রিন... !
ব
র্ষা
এ
খ
ন নেই , তবু
ধা
রা
পা
ত
হয়েই চলেছে ; আর নুন নিয়ে জমছে পাহাড় !
আগুন, তুমি
রাস্তার আগুন এসে ঢুকে গেল ঘরে, অথচ যাবার কথা
দূর থেকে দূরে, আগুন জ্বলবে আর তার তাপ লাগবে
না, পোড়াবে না কিছু, তাও হয় !জন্মটা যদি এশিয়ায় না
হ’য়ে য়ুরোপেই হ’ত, সুইজারল্যান্ড কিম্বা ফ্রান্সে,
তাহলে না হয় বোঝা যেত , সে তো বেটা এক ভেতো
বাঙালি ভুতের পো,তার উপরে বিড়ির আগুন,
কেন্দ্রাতিগ হ’ল হাওয়াসরণিতে,ফের উল্টোহাওয়ায়
কেন্দ্রাভিগ ! লিঙ্গস্বরূপ ! মহাকাল
মুত্রত্যাগকালে উত্থিত শিশ্নের মুণ্ডে লালাভা
যেমন... সালটা তখন উনিশশো ষোল টোলো হ’বে
কিম্বা তারও আগে ওই উনিশশো সাতে, কিউবিসম
শুরুর সময়, উড়তে উড়তে এল আর পাখনা খসে
বেড়ালের ঢঙে ঢুকে পড়েছিল বাল্মীকির হেঁসেলের
পাতার আগুনে , সেই তাকে ‘দা,দা’ মানে হ্যাঁ, হ্যাঁ বলে
উঠি--রুমানীয় ভাষায় –ভঙ্গিতে। ফরাসি ভঙ্গিমায়
‘খেলনা ঘোড়া’ ও বুঝি বলা যেতে পারত অনায়াসে
তবুও তখনো বলা সহজ ছিল না , কেন না দেঁড়েল এসে
ঘ্যানঘ্যানাতে থাকলো তো থাকলোই...
আ
গু
ন
তুমি কি
আমাকে ছোঁবে না !
মন
CH2O তে রাখা মনটাকে তুলে নিয়ে ফের মেলে দিতে হল হাওয়াতে আবার
যা হওয়ার তা হয়েছে। মরেছে জীবানুগুলো। বিষিয়ে গিয়েছে তবু ধর্মে-রসায়নে
মেছুনি মেয়েকে দেখে দ্বৈপায়ণ হ্রদে বসে কৃত্রিম কুয়াশা চাদরে কেন
কেন ঢেকে দিলে তার দৃষ্টিগোচরতা ? কেন বাবা দেখতে দিলে না সেই মোমের গলন?
এ লজ্জার কী মানে হয়!এ কেমন জিতেন্দ্রিয়তা! কী রকমের জীতবাসনা তোমার !
নিজেকে প্রমাণ কর, বারংবার ,প্রতিক্ষণ ; ধৈর্য কেন থাকে না এখনো !
###
লোকাল ট্রেনের মধ্যে প্রসাধন্ কক্ষ নেই অথচ ভীষণ বেগ চাড়া দিচ্ছে বেশ
চাপার অসাধ্য সেই উষ্ণ স্রোতোধারাটিকে মুক্ত ক’রে দিয়ে গিয়ে অঘটন হ’ল
খুলে ফেলা চাপা প্যান্ট যথাস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে ট্রেন ছেড়ে দিল
লজ্জা ফেলে সে দৌড়চ্ছে চলন্ত ট্রেনের সাথে ,গন্তব্যে যাওয়ার আকুলতা
ছিন্ন হল ধড়-মুণ্ডু ,হাওয়া এশে বিলি কাটছে যৌন কেশদামে ,মন ফের ডোবা ফরমালিনে !
###
দুই স্তবকের মধ্যে কোনও মিল,যুক্তি নেই; অর্থহীন মন তাই বিষিয়ে দিয়েছে কবিতাকে।
ফিউশন
এখন হপকিন্সে এসে যদি সুবিচার পায় কেউ আগুনে কান্নার
যদি খোঁজে শূন্যতার হাইড্রোজেন পরমাণু একাত্মকরণ
এবং যা সৃষ্ট হয় কালান্তক বিস্ফোরণ আর অভিঘাত
##
সমাজ সুশীল বটে, স্তব্ধবাক নতজানু নীলাম আত্মার
যখন প্রবল হয় সরল রেখায় চলা লোভের সরণ
শব্দে তা কি মাপা যায়?অক্ষরে অক্ষরে কি ওদের সাক্ষাৎ !
##
এই যা বর্ণিত হ’ল স্তবক স্তবকে তা কবিতার নয়
বলছে পল্লবগ্রাহী বিদ্বেষপ্রসূতলেখা মান্ধাতা স্মরণ
চলে আসা কালখণ্ড জুড়ে জুড়ে ফিউসনে জন্মানো প্রলয়
‘স্মরণ’ ‘সরণ’ নয়, ‘ত্বরণ’ ‘মন্দন নয়’, এই ধারাপাত
সুশীল বিলয়