রবীন বসু –র কবিতা
ক্রমাগত পুড়ে যাচ্ছি
একটা অসুখ সারাতে গিয়ে, আমি আরও
একটা গভীর অসুখের মধ্যে ঢুকে পড়ি।
বিষণ্ণ লতাপাতা গা-থেকে ঝেড়ে ফেলতে
অনেক কাঁটাময় যন্ত্রণার মধ্যে ঢুকে যাই।
যে প্রেম ব্রেকআপ নিল, নির্লজ্জের মতো
তার যাতায়াতের পথে দাঁড়িয়ে থাকি রোজ।
ভ্যাবলাকান্ত আমি রোদে পুড়ি, জলে ভিজি
ঠক ঠক শীতে কাঁথাহীন কাঁপতে থাকি…
এই যে প্রত্যাখানের জীবন, এই যে বিপরীত
মোহভঙ্গ,আমাকে অস্থির করে তোলে;
ভিতরে ভিতরে ক্ষয়ে যাই, অন্তর্দাহে জ্বলন—
ধোঁয়া নেই, তাপ নেই, অথচ ক্রমাগত পুড়ে যাচ্ছি!
সামান্য দান
সামান্য দান কি অসামান্য হয়ে ওঠে
তা তোমাকে দেখে বুঝেছি।
একটু হাসি, আমার দিকে ফিরে তাকানো
তোমার সামান্য স্পর্শ
মনে কত যে আলো জ্বলে দিতে পারে
তা তোমাকে দেখেই বুঝেছি।
এত ভিড় আর হৈ-হৈ-এর মাঝে
তোমার শান্ত দৃষ্টি
করুণ দ্বীপ হয়ে জেগে ওঠে।
আমি অন্ধকারে সাঁতরাতে সাঁতরাতে
জোনাকি ডানা ধরে
তোমার শরীর খুঁজে গেছি—
তুমি ম্রিয়মাণ হাস্যমুখী অধরা প্রেমিকা!