অর্চনা দে বিশ্বাস-র কবিতা
শূন্য
যাব না যাব না বলেও এক পা এক পা করে এগোই
এভাবেই হেঁটে হেঁটে এসেছি এতটা দূর
পথ তো খোলাই থাকে দিগন্ত বিস্তৃত
গুটিশুটি আমাদের জীবন
কিম্বা ভরা ভাদ্রনদী আশ্বিনের ঢল মহাপ্লাবন।
কুয়াশা ডিঙিয়ে বৃষ্টি ঘর
কিছু কষ্ট চকমকি পাথর চলকে ওঠা সুখ
অহরহ ফিরে ফিরে আসে সুখের পিছনে দুখ
এলোমেলো রাত কিম্বা রাতের পরে দিন।
এক পা এক পা করে এগোই
আরো কিছুটা পথ
কিম্বা পিছোই জীবনের হাটে সময়ের অপযশ।
এভাবেই পৌঁছে যাব গন্তব্যে
হয়ত শূন্যতে যেখান থেকে শুরু করেছি ।
এক পা এক পা এগোই
কিম্বা পিছোই
দীর্ঘ পথ
কিন্তু চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়...
আশ্রয়
পুরোনো আবেগগুলো
পুরোনো সেতারের ঝঙ্কারের মত
অক্ষরে অক্ষরে ভালোবাসা।
আমি আশ্রয় নিয়েছি নীল পদ্ম জল
জলঙ্গির পাড়ে স্বপ্নময় সিঁথি পথ বেয়ে বহুদূর
স্রোতে ভেসে যেতে পারি
ভেসে যেতে পারি মাছরাঙা রোদ চোখে
কুয়াশার জাল ছিঁড়ে ডেকে যায় অবিরাম মায়াময় ভোর।
আদতে ভোর হীন সকাল দেখা
মানুষের মিছিল সারি সারি সূর্যাস্তের রঙ
ডুব দিয়ে ফুঁড়ে ওঠা পানকৌড়ি
গাঢ় হয়ে ওঠা ঘন অন্ধকার
সবই দেখা মাছের চোখ মেলে...
আমি আশ্রয় নিয়েছি অলকার ঘন নিবিড়তা
খরি নদী এঁকেবেঁকে চলে যায় স্বপ্নের দেশ
হেলানো বটগাছ ঝুলনা বজরঙবলী ভাঙা মন্দির
আদতে জট বেঁধে যাওয়া সমস্ত সম্পর্কে জঙ ধরে।
মাঝে মাঝে ওয়াড্রপ ঝেরেঝুরে আলনা পরিপাটি
উজান সব ভাসিয়ে নেয় আলোছায়া বিন্দু বিন্দু ঘাম
ভাটাতে সঞ্চিত হয় নদীপাড় ধরে
আশ্রয় নিয়েছি দুর্ভেদ্য শালবনে
চঞ্চল অঞ্জনার কুলু কুলু স্রোত ...