প্রশান্ত বিশ্বাস-এর কবিতা

কবিজন্ম

প্রশান্ত বিশ্বাস-এর কবিতা 

জ্বর এখনো হয়

ছেলেবেলা জ্বর এলে মা তুলে আনতেন কচি লেবুপাতা, নরম ভাতের সঙ্গে লেবুপাতা মাখিয়ে তৈরী করতেন স্যুপ। ঠাকুমা পুরনো কলসীর তলায় ছিদ্র করে বেঁধে দিতেন সোনালী আঁশ। সেই কৃত্রিম জটাজাল বেয়ে আমার কপালে আছড়ে পড়তো ঝরনার শীতল জলধারা। আজ নিসঙ্গ মধ্যাহ্নে দাঁড়িয়ে অনুভব করি - কচি সবুজ লেবুপাতা নয়, স্যুপে ঘ্রান ছড়াতো, স্বাদ বাড়াতো মায়ের মমতা। কপালে ঝড়ে পড়া স্রোতকে শীতল করতো ঠাকুরমার স্নেহ। জ্বর এখনো হয়, এখনো উত্তাপে নষ্ট হয় বাঁকলের সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম। তবে সেই লেবুপাতার স্যুপ, জটাজাল বেঁয়ে নেমে আসা বিশুদ্ধ স্রোতের সঙ্গে আর দেখা হয়না, কথা হয়না। বাড়তি উত্তাপ বহন করে পেরিয়ে যেতে হয় মরুভূমি, পর্বতশৃঙ্গ ইত্যাদি। জিভের মতো হৃদয়েও ছড়িয়ে পড়ে অরুচীর সংক্রমণ।   



না হওয়া প্রেমিকাকে -৩০


যতই তুমি বন্ধ করো সিংহদ্বার যতই তুমি শক্ত করে দাওনা খিল। ছাতিম ফোঁটা জোছনা এলে দোরগোড়ায় সামলে থাকা এখনও বড্ড মুশকিল। এক ছাতিমে পাগল হয়ে চাঁদবুড়ি চরকা কাটা থামিয়ে রেখে দিচ্ছে ছুট, সাপলুডুতে আটকে গিয়ে জ্যান্ত পা ছক্কা পাঞ্জা উধাও হয়ে নামছে পুট। তারই পাশে আধমরা এক ক্যালেন্ডার তারিখ খুঁজে চোখের ভেতর জ্বলছে তুষ। একটা জন্ম জ্ঞান হারিয়ে বেশ ছিলাম হাসির ছটায় কেন ফেরালে প্রানের হুশ। আরেকটা দিন সাপলুডুতে পা রেখে মই খুঁজে নয় কুড়িয়ে নেবো দীর্ঘ শাপ, চাঁদের বুড়ি আইবুড়ো বা বন্ধ্যা হোক সাক্ষী রেখে তাকেই দুজন চিনবো পাপ। যতই তুমি লুকিয়ে রাখো বুকের ঘ্রান জোছনা এলেই ছাতিম ফুটবে রাত্রিভর, সেই আবহে স্নান সেরেছি বলেই কি রাতদুপুরে এখন আমার আসলো জ্বর। ওষুধ চেয়ে কাঁপছে ভাঙা কন্ঠস্বর তুমিও ভুলে যাচ্ছো সব ঔষধি গুন। আরেকটি বার কপাল ছুঁয়ে দেখবে কি?? নড়ে চড়ে উঠছে কিনা প্রেমের ভ্রুন!!  


না হওয়া প্রেমিকাকে ৩৩   


তোমাকে দেখি ঘুমের ভেতর প্রায় আধো জাগরন, আধো নিদ্রার ফাঁকে। বয়ঃসন্ধি পেরিয়ে আসার পরও তারই স্বাদ যেন দুচোখে লেগে থাকে। চোখ ধুয়ে নিতে, ঘুম কেটে যায় জানো তুমি লেগে থাকো ফ্যাকাশে মনি জুড়ে, চোখ বুজলেই কাঁটা কাঁটা বিঁধে ত্বকে লাল আগুনে এসক্লেরা যায় পুড়ে। স্বপ্ন ঘুমের মাঝের এই যাতায়াত ল্যুপের কিছু সূত্র মাফিক চলে, ভ্রু পল্লব বৃষ্টিতে স্নান সেরে তোমাকে খোঁজে ভীষন কৌতুহলে। তোমাকে দেখি ঘুমের ভেতর প্রায় বাটিক আঁচলে পটচিত্রের সুর, চোখ ধুয়ে নিতে ঘুম কেটে যায় জানো তুমি লেগে থাকো সমস্ত দুপুর। 



ছলনার ইভিএম


এভাবে কখনো কাজল দেবেনা চোখে মেঘ ভেবে ভয়ে বেরোতে পারিনা কাজে, রেইনকোট ছাতা হারিয়ে এসে প্রায় নতুন গল্প খুঁজছি বইয়ের ভাঁজে। শেষ সম্বল ছাউনি দিতে শেষ মুদ্রা পেতে যত দ্রুত পায় ছুটি, ভিজিয়ে দিতে তবু ওই কালো মেঘ নিয়ম মেনে দেখিয়ে যায় ভ্রুকুটি। এভাবে কখনো শাড়ি পড়বেনা আর সমুদ্র ভেবে আঁচলে ঝিনুক খুঁজি কয়েক মাইল পেরিয়ে বুঝতে পারি লুঠ হয়ে গেছে কিশোরবেলার পুঁজি। ঢেউ গোনা আর হয়না কিছুতে সূর্যের মত ডুবে যায় দুটি ঠোঁট, বালুতট জুড়ে ছলনার ইভিএম লুঠ হয়ে যায় প্রেমিকের গনভোট।