মধুমঙ্গল বিশ্বাস-এর গুচ্ছকবিতা
প্রশ্রয়
মানুষের জীবনে
একটি অটল যৌবনা সমুদ্র
একটি ভাঙাচোরা ডিঙি
আর দূরের, অতি দূরের বাতিঘর থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সমুদ্রের সৌন্দর্যে মোহিত হও
তার যৌবন বসন্তময়--
অবগাহন করো।
ক্লেদ দূর হবে
শান্ত হবে জাগতিক চাহিদাসকল।
বাতিঘর তোমার লক্ষ্যের স্থিরতা--
অপমান হলে অসহায় হলে
যদি মনে হয়, কার কাছে যাব
তাকিও রাধার দিকে,
সে তোমার রূপবাতিঘর।
মাঝে মাঝে
অথবা মন খারাপ হলে
কিংবা ক্লেদাক্ত পৃথিবীর জানালা খোলার ইচ্ছে হলে
ডিঙিকে সহায় করো
তাকে নিয়ে ঘুরে এসো যে-কোনও বৃন্দাবনে।
জীবন অথই হবে, যা তোমার প্রকৃত প্রশ্রয়।
একটি বাউলসফর
যে-কোনো বয়সে তুমি বসন্তের শিকার হতে পারো
যে-কোনো বয়সে তুমি বসন্ত মাখতে পারো
যে-কোনো বয়সে তুমি
রাধা
বসন্তের দহন সত্য
বসন্ত শুশ্রূষা জানে
রাধার নূপুর যদি বাঁশিকে বশ করে ফেলে
রাধা তখন মহিয়সী, সর্বজনীন--
রাধা তখন অপ্রতিরোধ্য
যেমন বসন্ত
এই যে ছাদবাগান, একে বৃন্দাবন ভাবা যেতে পারে
আর এই অজস্র রঙের মেলা, ফুলরাশি
এ কি কুঞ্জ থেকে কিছু কম!
এই যে বাউলভাই, গগন হরকরা
শুরু করো শুরু করো
শুরু করা যাক
বসন্তযাপন--
অনন্ত বসন্ত নিয়ে রাধা আজ সম্মুখসমরে।
লোভ
মানুষ তো অমর নয়
তাই বুঝি অমরত্ব লিখে রাখে।
লিখে রাখে ভাবনা ও চেতনাসম্ভার।
অনেকটা মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবার মতো
আকাঙ্ক্ষা ও অনিশ্চয়তায় ভরপুর।
সে কিছু আভাস দেয়
কিছুটা হলেও মানুষ লোভী হয়ে ওঠে।
মহাকাল, সে বড়ো রোম্যান্টিক
ব্যাপক হৃদয় তার
কোনখানে রাখবে আমায়, না জেনেই
লিখি, লিখে চলি অমরত্বের কথা।
সফর
জীবন মানেই গান ভেবে
যারা যারা নিজেরই ক্রশ বয়ে নিয়ে যায়
ভেবে দেখো, তুমিও তাদের একজন কিনা!
এ কোনো দোষের কথা নয়
এ কোনো গুণের কথা নয়
এ এক মহাসাধনের আলপথ---
দু-পাশে ধানখেত, শ্যামল, সবুজ
তবু ছায়া নেই
শুধু চলা আছে, তেপান্তরের দিকে…
মুখোমুখি
যদিও ক্লিশে কথা
প্রতিদিন একবার আরশির সামনে
দাঁড়াতেই হয়--
জেনে নিতে হয়, বুঝে নিতে হয়
জীবন কতটা পোড়াল আমাকে!
এইসব ভাবতে ভাবতে মানুষ--
সকলেই নয়, কেউ কেউ
নিজেই নিজের আরশি হয়ে ওঠে।
আমি এই ক্লিশে কাহিনির অনুশীলন করে চলি।
বাহানা
যতদূর পড়াশুনা করি
যতই অনুশীলন করি
কোথাও, কোনও ক্ষেত্রে
যথাযথ হতে পারিনি কখনো--
এটাই আমার ইডএসপি, অফুরান প্রেরণাকুসুম।
এই যে সামান্যটুকুও আয়ত্ত করতে ব্যর্থ হই
তাকে কি ধরার ইচ্ছা খুব আছে?
নেই-- মনে হয়, নেই।
আর-একটি পর্বে যাবার বাহানা ভাবা ঠিক হবে--
নিবিড় সংযুক্তি ছাড়া দীর্ঘ ম্যারাথনে
সচল থাকা কি যাবে!
খেলা
আপাতত আমার লক্ষ্য বাহান্নটি তাস
প্রতিটি তাসে লিখব জন্মবার
কবিতা লেখার অভিপ্রায়।
গোলামকে টেক্কা বানাব
টেক্কাকে দু-কড়া
এ কোনো খেলা নয়, তবু খেলা হবে
এইটা-ই খেলা।
তুমি কি ভুল তাসে বাজি ধরেছ!
আমি যে সর্বস্ব নিয়ে খেলতে নেমেছি!