গৌরাঙ্গ দাস -র কবিতা

কবিজন্ম

 

গৌরাঙ্গ দাস -র  কবিতা

  

আমার এলোমেলো কথাগুলো -১

  দুটো পাখা চলছে ঘরে

 পর্দা দুলছে

 টেবিলে খোলা ইতিহাস বই

 স্বদেশ উড়ছে

 

 দুটো কথার জন্য এমন অনেক কিছু হয়

 আকাশে যুদ্ধবিমান ওড়ে

 ইতিহাসের পৃষ্ঠা বাড়ে

 তাজা প্রাণ গুম হয়ে যায়

 

 দুটো কথার জন্য স্বপ্ন দেখা

 দল বদলে ফেলা

 রং বদলে ফেলা

 সুর বদলে ফেলা

 প্রভু ভক্তি বাড়িয়ে ফেলা

 

 দুটো কথার জন্য পোষ মানা

 বাদর থেকে বাঘ হয়ে ওঠা

 যতদিন দম থাকে

 দলের

 

 দুটো কথার জন্য

 মা অন্নপূর্ণা

 ভিখারী হন

 

 

 আমার এলোমেলো কথার কবিতা-২

 

 দুজনার ভাবের মধ্যে মেঘ ঢুকে পড়েছিল

 ঢুকে পড়েছিল ঝড়,ধ্বংসের মাত্রায়।

 

 আমরা আমাদের বুঝতে পারিনি

  স্বর্গ ধ্বংস হয়েছিল।

 

 সেই থেকে যে কোন ধ্বংসস্তূপের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে -

 আজও বিলাপ শুনতে পাই অসম্পূর্ণ  ভালোবাসার।

 

 

 আমার এলোমেলো কথার কবিতা-৩

 

 সারাদিন কবিতা পড়ি।

 কি যে পড়ি ছাই কিছুই বুঝি না,

 শুধু মনে হয়- কোনো ধূ ধূ প্রান্তরের কিনারে

 দাঁড়িয়ে আছি।

 

 দূরে আকাশ নেমেছে কোন এক গাঁয়ে

 যে গাঁয়ে তেরো পার্বণের গান হয়।

 বয়ে যায় ধবল নদী

 সে নদীতে উদোম শিশুদের সাঁতার

 কলমি লতার মত ভেসে থাকে জলে।

 

 ওগাঁয়ে মা মনসার থান আছে,

 আছে বুড়ো বটের বেদি।

 যে বেদি মাঙ্গলিক চিহ্ন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

 আর আছে গ্রামের আকাশে বাতাসে একটা নৈঃশব্দ -

                                   যার নাম দারিদ্র।

 

 

 

 আমার এলোমেলো কথার কবিতা-৪

 

 কাল একটা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম,

 কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না -

 ওটা কবিতা পাঠের আসর ছিল।

 

 বারবার মনে হচ্ছিল কতক গুলো মানুষকে-

 জানতে জানতে একটা দিন ভীষণ দুঃখ আর যন্ত্রণায় কেটে গেল।

 

 

 আমার এলোমেলো কথার কবিতা -৫

 

 শিকড় ছেড়া মানুষগুলো খাদের কিনারে

 কেউ পাশে নেই

 

 দূরে দাঁড়িয়ে আছে গাছ

 হাওয়ায় দুলছে প্রশাখা

 

 ছায়া ছড়িয়ে ডাকছে-আয়

 

 কিছু দূরে শ্মশানের ছাই উড়ছে...