অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়-র কবিতা
সাজানো শূন্যতা
বাড়িতে ফিরে যাওয়ার
শেষ ইচ্ছে পুরণ হল না-
কতোবার বলেছিলে
'একবার বাড়ি ঘুরে আসি তারপর'-
জীবন দিয়ে ধীরে ধীরে
সখে ইমারত সাজিয়েছিলে
রঙে রঙিন করেছো কক্ষগুলো
দু'হাতে আঁকড়ে রেখেছিলে সব।
অথচ দেখ -সব পড়ে আছে
সাজানো গোছানো...
লেগে আছে এখনও তোমার স্পর্শ ;
শুধু তুমি নেই, শুধু তুমি নেই।
তোমার অনুপস্থিতির ভেতর
এই সাজানো কুঞ্জ বিসদৃশ
তবুও ভোর হয় - রাত্রি ভেঙে-
শুকতারা অদৃশ হয়ে যায়।
ঠিক তোমার মতো, ঠিক তোমার মতো।
শূন্যনদীর দৃষ্টি
একটা মানুষ কী ভাবে বদলে গেলে
বলতে পারে না তার কথা?
কৃষ্ণনগর লোকাল দূরন্ত গতিতে ছুটে চলে,
উঠে পড়েছে একটা মানুষ-
সে বলতে পারে না তার গন্তব্য,
সে উদ্ভ্রান্ত অথচ গোধূলি বিকেলের মতন নিস্তব্ধ।
তার দৃষ্টির ভেতর খেলা করে
কোন শূন্য নদী-
ঢেউ নেই, স্রোত ও নেই।
তবু সে চলে
পালাক্রমে অন্যলোকে জিজ্ঞেস করে-
তার ঠিকানা কী?
সে শুধু দৃষ্টি ভাসিয়ে দেয় ভাঙা মেঘের মতন।
হয়ত সে একদিন
আঁকাবাঁকা শূন্যপথে
কোথাও হারিয়ে যাবে।
ধ্রুব
দিগন্তভাঙা মেঘ উড়ে যায়।
পদ্মপাপড়ির মতো
ছড়িয়ে পড়ে সকাল।
স্রোতপূর্ণ বেত্রবতী ও শিপ্রার তীরে
আধ্যাত্মচেতনায় জাগ্রত বনভূমি।
এরই ভেতরে
রাজা উত্তানপাদের রাজপ্রাসাদ।
সৎমা সুরুচির বাক্যে
অপমানিত বালক ধ্রুব।
মাতা সুনীতির চোখে জল।
তিনি জানতেন—
ঈশ্বরের কাছেই
খুঁজতে হয় আশ্রয়।
তাই একদিন
রাজপুত্র ধ্রুব
প্রাসাদ ছেড়ে
পা বাড়াল অরণ্যপথে।
দিন যায়, রাত যায়।
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি
সব পিছনে ফেলে
চলতে থাকে তপস্যা।
অবশেষে
অনুভূত হল
বিষ্ণুর কৃপাদৃষ্টি।
অপমানিত বালকটি
আর ফিরে এল না আগের রূপে।
উত্তর আকাশে
স্থির হয়ে জ্বলে উঠল
ধ্রুবতারা।
আজও পথহারা মানুষ
রাত্রির দিকে তাকালে
খুঁজে পায়
এক স্থির আলো।