অরুণাংশু ভট্টাচার্য-র কবিতা

কবিজন্ম

 অরুণাংশু ভট্টাচার্য-র কবিতা


গজল


১.

সংশয় কি এতই স্বচ্ছ কাচের কাছে সমর্পিত  

দেহের মধ্যে নিভছে যখন যে-স্বপ্ন আর যা অর্জিত  

মিলিয়ে যাওয়ার সম্মোধিতে  

সবই সমান গ্রীষ্ণ-শীতে  

হারা-জেতার প্রশ্নে যখন কেউবা মুক্ত কেউবা ধৃত  

২.

নাস্তি এবং খেজুরাবৃক্ষ দুইদিকে দুই কলকথা  

স্থূলের সঙ্গে আলাপরত নির্বাণ আর অসঙ্গতা  

গুল্ম-ঘেরা পুনর্জন্ম  

কোথাও বিষাদ কোথাও কর্ম  

হৃদয় বুঝি বসেই থাকে যেখানে তার অনিত্যতা


৩.

চতুর্দিকে মঞ্চ, আলোয় উদ্ভাসিত প্রহরখানি

অতীতজুড়ে খেলার মাঠের মধ্যে বকুল, কানাকানি—

প্রশ্ন ছিল তখন, কেন

সকলহৃদয়তন্ত্রী যেন

পাথর বুঝি পড়ছে গলে কে বা জানে, কেই-বা জানি  

৪.

উপর থেকে আল-বিরুনি, নিচের দিকে সরাইখানা

বাতাস ঘুরছে খ্রিস্টপূর্বে কেউ তাকে করছে না মানা

বারোর রাশিচক্রে যদি

ঘনিয়ে আসে বিষমপদী

থেরবাদীরা চৈত্যমুখি, পিছনে কেউ দিচ্ছে হানা!  

৫.

অস্ত্র যদি ভিন্ন হল মালতী আর উমা থেকে

নাচের ভুলে গল্প, যখন পর্দা নামে ঈষৎ বেঁকে

রাত-বেরাতে অস্ত্রি, ধুলো

মাখছিল কি কার্পাসতুলো

পথের মোড়ে সন্ন্যাসী, তার আত্মা যেন যাচ্ছে হেঁকে