বিজয় সিংহ-র কবিতা

কবিজন্ম

 বিজয় সিংহ-র কবিতা


যারা প্রেম নেয় 


যা তোমার দিব্যাকাশ, জ্বলন্ত ফানুস 

উড়িয়েছি, 

হৃদি-রাজনৈতিক তুমি নিভিয়ে দিয়েছ।


বঙ্গীয় কালচারে এই এক অভিনব:

শেষ বলে কিছু নেই 

 উজ্জ্বলন নিভন্তেই জেগে থাকে, পুণ্য 


দরবেশের নাভি থেকে জাগ্রত হলেন 

যে দেবী, 

আমাদের মুখে তিনি 

অন্ন দেবেন, মূর্ছনা 


ওঠার আগেই পাত পেতে সার সার 

বসে আছে ভূমিতে, ভূমার 

অনুগৃহীদের মায়াদল


যারা প্রেম লেখে 


মোহ অশ্রু বালিয়াড় তরুণের বিপন্ন ইঙ্গিত 

তোমার কবিতা রশ্মিধ্বস্থ নিয়ে অচেনা ডেরায়

বেদনটুকুই তার নিতে পারি প্রৌঢ়ের সংগীত 

প্রলাপে জড়ানো, শোনো, অতিরিক্ত সূর্যাস্তের গা'য়


জটিল ভাষায় লেখা, আধাআধি বুঝে 

আঁচে দুধ জাল দেওয়া, যেভাবে সম্ভব ফুটপাতে, 

দেখি, পার্কে ঢলা রাতে লাশেরা, হাভাতে,

মুষ্টি ভিক্ষে চায়, যৌনবর্ধক সালশার খোঁজে 


তোমার বাড়িতে গেলে, অমৃত ফলের আঁশ 

তাদেরকে দিও, পার্ক করা গাড়ি তোমার গ্যারাজে 

প্রতীক্ষায় যদি থাকে, স্পর্শ রেখো, সুদূরের 

মুখে আমি বসিয়েছি বিবাগী প্রসাদ, রাজি? 


যদি রাজি তবে প্রৌঢ় অছন্দে তোমার 

ধ্বনি এনে দিতে পারে, শব্দবন্ধে ঝাঁপানো আষাঢ়

যাতে সব, সবকিছু, অরুণ বরুণ লাগে ঠোঁটে 

যাতে সব, সবকিছু, যুবক যুবক হয়ে ওঠে



যারা প্রেম ভাসায়


তিব্বতি লামার মতো বিষণ্ণ

মাথায় ভর্তি করে যারা যারা অলক্ষ্য মৈথুনে যায়

এ কবিতা তাদেরকে মণিপদ্মের হার্দ্য ফেরাক


পেট্রোল পাম্পের গায়ে 'ধ্বজভঙ্গের ঔষধ', পাশে 

ঋতুরঙ্গের পোস্টার, 

দিব্য জবা, তুমি কাকে ক্লিভেজের উত্তীর্ণে ভাসাও


বন্দুকের নলই সব ক্ষমতার উৎস। উৎসে 

বনস্পতি বুনোফুল উন্মোচন করে। 

তরুণ কবিকে আমি পুটুসের নান্দনিক ফিরিয়েছি


কালো বিড়াল ও সাদা বিড়ালের মধ্যবর্তী জোনে

দাঁত, নখ, আঁচড়ের সত্য যারা আলজিভে নেয় 

এ কবিতা তাদেরকে দিয়ে যাক লঘুচাল, 

নৈশসঙ্গ, প্রাচীন বিষাদ