সুচরিতা চক্রবর্তী-র কবিতা

কবিজন্ম

সুচরিতা চক্রবর্তী-র কবিতা 


তুমি কি কেবলই 



সকালে যখন একটুকরো রোদ এসে ঢুকে পড়ে আমার বিছানায় /

 অথবা একটু বৃষ্টির ঝাপটা  / 

মনে হয় কবিতারা এলো বুঝি/ 

আমি তেমন করে  ছুঁতে পারিনি  তাকে /

সে যে কেন উঁকি দিয়ে চলে যায়/

সংসার খেলার সিঁড়িগুলো অতিক্রান্ত প্রায় /

এখন তো এসো প্রিয় শব্দ প্রিয় অনুভব /

যা আমার শরীরকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যেতে পারে/ 

জীবন তো নদীর মতো বইলো কত কাল /

এসো মিলন এবার না হয় স্পর্শ করি মোহনার নীল জল। /




নদীকে চেয়েছি আমি বয়ে যাক বুকের ভেতর



নদীকে চেয়েছি আমি বয়ে যাক বুকের ভেতর,  /

চাঁদ তারা লুটোপুটি আর যত তীরে আছে গাছ।  /

জলজ ছায়ায় ভিজে যাক  শুকনো যত কথা,  /

ঢেউয়ের তালে গান বাজে  আমার নীরব সাঁঝে।  /

বাঁকে বাঁকে জমে থাকা ক্লান্ত পাথর সময়ের সাথে  /

ভেসে যাক স্রোতে, মুছে যাক ধুলোর আস্তরণ ।  /

কাশফুলের মতো হালকা হোক বুকের আঁচড় যত /

জোছনা তুমি ধুয়ে দিও যত পুরনো অভিমান।  /


  তুমুলভাবে  ফিরে এসো ভালোবাসা।/





একান্ত ব্যক্তিগত 

 


জানলা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম দূরে

ভেসে যাচ্ছে মাঠ গোধূলি বিকেল

মন কেমনের আলো নিভছে ক্রমশ, 

প্রতিদিন মনে মনে এক পোট্রের্ট আঁকি

সূর্য উঠছে পাখি উড়ছে ফুল পড়ে আছে নিভৃতে, একান্ত আহ্লাদে।

সকল শিল্পকৃতি ভীষণ জীবন্ত হতে চেয়েছিলো 

অথচ তুমি ক্রমশ  স্থির অপলক 

কখনো সম্মোহিত করতে পারোনি আমাকে।  আজ কিছু ভালো লাগে না আর 

দূরে দূরে তাকিয়ে থাকা ছাড়া।




নীলচে আকাশ


আসমুদ্রহিমাচল নি:শব্দের নীল আকাশ-

ফেনীল জলরাশী তোমাকে দিলাম।

তুমি তো দেখেছো কত অজস্র মানুষের 

চোখ কি বলে! 

মুহুর্মুহু বুকের অলিন্দ কেঁপে জন্মায় ভালোবাসা 

আজন্ম লালিত নৈর্ব্যক্তিক চিত্রকল্প কিভাবে দহন ঘটায়! 

শব্দবন্ধে তমিস্রাঘন পথে এসো ঘটাই প্রাণের ইঙ্গিত।