অভি চক্রবর্তী-র কবিতা

কবিজন্ম

 অভি চক্রবর্তী-র কবিতা


১

আজকাল

আয়নার দিকে তাকালে

এক পুরনো মঞ্চ দেখতে পাই-


ব্যক্তি কী এভাবেই

গোষ্ঠীর দিকে চলে যায়?


২


গাছ যেমন পাতা ঝরায়

তেমনই মাঝে মাঝে আমাদেরও

অপ্রয়োজনীয় সম্পর্ককে চিরতরে ঝরিয়ে ফেলা ভাল


নতুন সম্পর্ক গজিয়ে ওঠার জায়গা পায়...


৩

আড্ডা জমেছে খুব।

বন্ধুরাও জমে উঠেছে

বোতল হাতে, হাসির ফোয়ারায়। 

আলো চলে গেল হঠাৎ।

সব অন্ধকার...ঘুটঘুটে


ফুটফুটে জোছনায়

আমার খাবার টেবিলে

জোঁক ভরে উঠেছে।

আমি নিজেকে এগিয়ে দি-


ওরা খায়।

বন্ধুর ভোজ হতে আজকাল

আমার বড়ো আরাম হয়। 


৪


আসন পেতে রেখেছি

ভাত বেড়ে রেখেছি সাধ্যমতো

খেয়ে মুখ মুছে ফেলাটুকুই যা বাকি...


তারজন্য কতোরকম ছল, কত মেকাপ, কতো আলো, কতো আবহ...


এইসব একঘেয়ে কাজ যখন চলে

আমি আবার অন্য কোথাও ভাত বাড়ি, অন্য কোথাও আসন পেতে অপেক্ষা করি অতিথির...


মুখ মুছে ফেলাই নিয়তি!

একথা জেনে গেছি কবেই। 

তা বলে রান্না বন্ধ থাকবে?

বন্ধ থাকবে আপ্যায়ন??


৫


আমার শহর এই যে ভিতরে ভিতরে বদলে যাচ্ছে রোজ রোজ

তা কী তুমি টের পাও? নাকি প্রত্যাখ্যান সাজিয়ে রাখো ঠোঁটে ঠোঁটে? 


কিছু কুত্তা দূর থেকে ডেকেই যাচ্ছে, অনেকক্ষণ ধরে,

তারা বুঝতেই পারছেনা প্রত্যাখ্যান কীভাবে ঠোঁটে রাখা যায়?

আসলে তারা সবকিছুর অনুবাদ করতে চায়- সবকিছুর কি অনুবাদ হয়? 


যেমন আমি বল্লাম জীবনানন্দ, তুমি বল্লে ট্রামলাইন। 

ধরা যাক- আমি বল্লাম বিভূতিভূষণ আর তুমি বলছো দেবযান, এভাবেই আমি বলছি কফিশপ, তুমি বলছো শর্তহীন ভালোবাসা। 


তারপর সন্ধে ফুরিয়ে আসতে লাগল, শহর ফিরে আসতে লাগল গন্তব্যে, তখন আমি বলব গন্তব্য, তুমি বলবে, 'বনগাঁ লোকাল।'


এসব শুনে কুত্তার সঙ্গে কিছু শেয়ালও জুড়ে গিয়ে তেড়ে চিৎকার জুড়েছিল খুব...খুবই...