অচিন মিত্র-র কবিতা
লীলা
ভুলেছ কি লীলা
রাত্রির ?
কুসুমের মতো
জাগরণ
করপুটে অঞ্জলি যেন
কথাকে পেরিয়ে কথা
মৌন স্তবের
মনে আছে দেবী ?
পথ
খাঁচাটি পেরিয়ে
মোহহীন আয়নাতে পথ লেখা থাকে
বিগত রাতের যেন গান
কথার সাগর জুড়ে উথালপাথাল
শুধু সুরে সুদূরের স্তব বেজে চলে
বেঁধে রাখা নৌকাটি মেধাবী মাঝির
ভয়কে তাড়িয়ে কোন তেপান্তরের মাঠ ধুলোতে মেশায়
মলাটের আবডাল পর্দার মতো
হাওয়া দিলে কক্ষের হৃদয় দেখায়
বাক্য শব্দ পার করে
অক্ষর বিবসন অক্ষরগুলি
ভিতরের ঘরে প্রেমে পাগলের পারা
বহুমুখী চুম্বন খুঁজে
কেঁপে ওঠে কেঁপে কেঁপে ওঠে
নদীটির দিকে
নদীটির দিকে যেতে যেতে
নদী হয়ে যাই
স্নান সারি
নদীকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি
রাত হলে সঞ্চিত দিন থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়
নদীটিকে আলো দিয়ে ধুই
পথকে আবাস করে আমি আর নদী
চালে ডালে জল দিয়ে উত্তাপে সেঁকে
আগুন নেভাই
আগুন নিভিয়ে আর জল মুছে মুছে
অভাবের সংসার এইভাবে চলে
রাতে নদী প্রাণপণ ভেজায় আমাকে
পাঁজর পুড়িয়ে তাকে স্পন্দনে রাখি
স্তব্ধ রাত্রি জুড়ে শব্দের উৎসব আমাদের কথায় কথায়
দেবী বলে নদীটিকে ডাকি
সাড়া দিয়ে নদী বলে সখা
ভোর হয়ে যায়
বাতিঘর
ওইপারে শ্যা মলিমা
সবুজের আয়োজন ওইপারে ধোঁয়ার আড়ালে
চড়ুইভাতির আলো পুড়ে পুড়ে ছাই
হাঁটার ক্ষমতা নেই
আবরণহীন দু’টি পায়ে
রক্তের নদী জমে নিরেট পাথর
সাঁকো ভেসে গেছে স্রোতে বিপুল জোয়ারে
ছপছপ দাঁড় পড়ে জলে
পাল আর বইঠার প্রবাদপ্রতিম বোঝাপড়া
থামবার অবকাশ লীন হয়ে যায়
শ্মশানের দিক থেকে সহৃদয় হাওয়া
প্রতিশ্রুতির মতো ভস্ম ওড়ায়
চিতাকাঠ লন্ঠন যেন বাতিঘরে
চিনে নেয়া যায় পথ বহু দূর থেকে
বাজো বাঁশি বেজে ওঠো
ছায়াপথ যেন
তারাদের মতো দূরে খুব দূরে দূরে মনে হয়
ঘুমহারা চোখগুলি আশায় নিকোনো
রাত্রিও দ্বিধাহীন কান পেতে আছে
এখানে বিলাপ নেই এখানে গরিমা
ভিখারির মতো শুয়ে রয়েছে রাজন
আলোকে ধরবে বলে হৃদয়ের পাত্রটি অশ্রুতে ধোয়া
শরীরের বিভাবরী পার হয়ে গেলে
ভাসে
জোছনায় ভাসে বনপথ
মেধাবী নদীটি ভেসে যায়
উৎসব থেকে খসে শোকের পোশাক
ও বাঁশি তুমি কি শুধু বিরহ জেনেছ ?
সারাটি শহর জুড়ে
আকাশে নীলের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে কালো। ত্রস্ত হাওয়ারা পড়িমরি বাড়িতে ফিরতে গিয়ে বোঝে, হারিয়েছে পথ। ট্রাপিজ চলনে খুব পারঙ্ম তবু, অবরোহী মেঘগুলি মাঝপথে ফ্রিজ। বাদুড়ের মতো ঝুলে থেকে বাড়ছে তাদের চাপ শিরাধমনিতে। আবহাওয়া অফিসে তালা পাকাপাকি। পথহারা পাখিদের ডানা থেকে ঝরে পড়ে গতির পালক। মিলেমিশে একাকার খাঁচা ও আকাশ। শৌখিন বরফ নয়, হিমযুগ। সারাটি শহর জুড়ে আই সি সি ইউ।
কীভাবে জানাই দেবী কীভাবে জানাই খুব মন খারাপের কথা, তোমারই জন্য শুধু মন খারাপের।