নৃপেন মন্ডল-র কবিতা

কবিজন্ম

নৃপেন মন্ডল-র কবিতা

তোমার অহংকার

 তোমার অহংকার তুমি হাঁটো পাকস্ট্রিটের রাস্তায়

আমিও তো হাঁটি ফুটপাতে

গ্রাম্য মেঠো পথে

 

তোমার অহংকার তুমি আলিপুরে যাও

চিড়িয়াখানায়; পাখি দেখো

আমিও তো দেখি মুক্ত চিড়িয়াখানা

কতশত গাছে

 

তোমার অহংকার তুমি বৃষ্টি ভিজো ছাদে

পৃথিবীর প্রান্তর আমার ছাদ

শিশির ভেজা পা আর মাথায় বৃষ্টি

 

তোমার অহংকার তুমি পাহাড় দেখেছো

গুনে গুনে ভেঙেছো সিঁড়ি

পাহাড় আমার গাঁ

আমায় সিঁড়ি ভাঙতে হয় না

 

তোমার অহংকার তুমি শুনেছ সমুদ্র গর্জন

সন্ধ্যার আঁধারে

তুমি কি জানো? আমার পুরো হৃদয় জুড়ে

শুধুই সমুদ্র

অহংকার না; এ  আমার অলংকার।

 

ঢেউ

তুমি ভালোবেসেছিলে যারে

সে সমুদ্রে মিশে লোনা হয়ে গেছে

জন সমুদ্রের ঢল শুধুই কিনারে আছড়াই

লোনা জল মিশে গিয়ে লোনা মাটি হয়

লাল কাঁকড়া সৌন্দর্য বাড়ায়

 

নামটুকু মনেপড়ে তালসারি

যে নদীর জল ছিল একদিন স্নিগ্ধ শীতল

পাহাড় চূড়ায় শুনেছিল ঝর্নার গান

সে যে আজ চড়া ফেলে সমুদ্রে বিলীন

 

জীবনের ঢেউ মেখেছো কী?

লোনা হবে দেহখানি আর মন

শুকনো পাতায় চোখ মিটমিট

সে ঢেউ; ধুয়ে নিতে হয় সাদা জলে

আর ভেবে নিও জীবন রঙিন।

 

ভবিষ্যতের মেয়ে

থৈ থৈ জল; একবুক

সারাদিন

সর্বক্ষণ

বিরাম নেই এক ফোঁটা

শুধু বৃষ্টি

মনে হয় ডুবে যাবে বাংলা পাশ করা মেয়েটা কলেজস্ট্রিট এসে।

চিনারপার্ক থেকে যশোর রোড সাঁতার ইংলিশ জানা মেয়ের ভবিষ্যতে।

এমনি শুধুই আশ্বাসবাণী ছয় রিপু জুড়ে

তবুও তোমাকে পেরুতে হবে পুরো একটা ভবিষ্যৎ

ঝড়ে উড়ে গেছে যে শুকনো বীজ দিগন্তে

মহীরুহ হবে ঠিক জানি দিনান্তে

তার 'পরে কত জাতি মরে গেছে অকালে; মরে যায়।

 

নিরাশা ভরা আশা নিয়ে

তবু তারে দেখেছি প্রতি সকালে অঝোর নয়নে

তারা সবাই ভবিষ্যতের মেয়ে।